This entry is part 1 of 10 in the series মনমাঝি

 

পর্ব—১। ____________________________________________________________________________

                রাঙাপিসিকে প্রণাম করে মুখটা তুলতেই তিনি শিমূলকে জড়িয়ে ধরলেন… “বাব্বা এতদিনে মনে পড়ল তবে পিসিকে? দেখতে দেখতে বিয়ের বয়স হয়ে গেল…ভাবা যায় সেই শিমূল! কি সুন্দর দেখতে লাগছে রে তোকে !” … পিসির এমন মন ভোলানো কথায় শিমূলের মুখে একটা হালকা হাসি খেলে গেল। সুর্য তখনও মধ্যগগনে পা রাখে নি।তবুও রোদের তাপ কিছু কম লাগছে না…কোলকাতায় শীত যদিও বিদায় নিয়েছে,কিন্তু এখানে প্রচ্ছন্ন একটা শীতের আমেজ আছে এখনও। পিসি বললেন “চল ,ওপরে চল তোরা ,হাত মুখ ধুয়ে কিছু মুখে দে দিকিনি।”

……………………..……………………..……………………..…ক্রমশ

 

  
This entry is part 2 of 10 in the series মনমাঝি

 

 

পর্ব—২। __________________________________________________________________________________________

 

পাশের ঘরে বাবা আর রাঙাপিসির কথা শুনতে শুনতে শিমূল কেমন যেন একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। দূরে জানলার বাইরে একটা কোকিল সমানে ডেকে যাচ্ছে। জানলা দিয়ে তাকালে একটা আমগাছ দেখতে পাওয়া যায় । এই গাছটার ফল খুব মিষ্টি , শিমূল জানে গাছটার নাম আম্রপালি। তার বেশ মনে আছে এই গাছেরই ছোটো ছোটো ভাঙা ডাল কুড়িয়ে সে আর রুবানদা একবার চাঁচর বানিয়েছিল দোলের সময় , সেই যেবার মাধ্যমিক পরীক্ষার পর এখানে এসে থেকেছিল কিছু দিন ।

………………………………………………………………………………………………………………………………………………ক্রমশ

 

 

  
This entry is part 3 of 10 in the series মনমাঝি

পর্ব—৩। ___________________________________________________________________________________________

ঝাড়গ্রাম রেলস্টেশন থেকে বেশ খানিকটা রাস্তা এগিয়ে এসে, বাঁক নিলেই লালগড় রোড । ঝাড়গ্রাম মিউনিসিপ্যালিটির অফিস, সরকারি হসপিটাল এসব ছাড়িয়ে, বাঁদিকে মোড় নিয়ে হাই রোডে এসে পড়ল রুবন আর শিমূল। এন.এইচ-সিক্স থেকে ডান দিকে বাঁকলে রগড়া রোড, সেখান থেকে যত সামনের দিকে এগোতে থাকল লোকালয় পেরিয়ে রাস্তা ক্রমশ ফাঁকা হতে থাকল …চড়া রোদের মধ্যে কেমন যেন একটা ঠান্ডা গরম হাওয়ার মেলবন্ধন… রুবনদার কথায় জানা গেল সামনেই লোধাসুলি, বেশ বড়োসড়ো একটা জঙ্গল।ঘন জঙ্গলের এমাথা ওমাথা ঠাওর করা যায় না ।মাঝে শুধু দুএকটা চেক পোষ্ট পড়ে, রাস্তার দুধারে শুধু গহীন জঙ্গল …..এমন সে অন্ধকার যে বাইরে থেকে কিছু চোখে পড়বার জো নেই….

…………………………………………………………………………………………………………………………………ক্রমশ

  
This entry is part 4 of 10 in the series মনমাঝি

পর্ব—৪

_________________________________________________________________________

সত্যিই ঝাড়গ্রাম শিমূলের জীবনটাকে বদলে দিয়েছিল অনেকটা। তার উড়ু উড়ু মনটাকে নিবদ্ধ করেছিল একটা স্থির লক্ষ্যের দিকে। কিছু করতে চাওয়ার একটা গভীর বাসনা তাকে এমনভাবে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছিল যে এস.এস.সি তে সবাই যখন চাকরীর জন্য নিজের বাড়ির কাছকাছি অঞ্চল খুঁজেছিল, সে তখন স্বেচ্ছায় যেতে চেয়েছিল সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকে ।কোলকাতা ছেড়ে এতদূরে, বাড়ির বাইরে একা থেকে স্কুলে পড়ানোর ব্যাপারে সবাই আপত্তি করেছিল । কিন্তু গ্রামবাংলার নেশা ,সাধারন মানুষগুলোর জন্যে কিছু করতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছা …সর্বোপরি রুবনের প্রতি অগাধ এক শ্রদ্ধা , তাকে উত্সাহিত করেছিল এমন একটা জীবন বেছে নিতে।

………………………………………………….. ক্রমশ 

 

 

  
This entry is part 5 of 10 in the series মনমাঝি

পর্ব—৫। _____________________________________________________________________________

রাতে খাওয়া দাওয়ার পর রাঙাপিসি গাড়ি বারান্দার কোণের দিকের ঘরটায় বাবার শোওয়ার বন্দোবস্ত করল । শিমূলের হাতে সাদা প্রিন্টেড বেডশীট আর পিলোকভার বার করে দিল আলমারি থেকে । শিমূল জানে ওই ঘরটা আগে রুবনদার ছিল।এখন সে আর থাকে না বলে ঘরটা ফাঁকাই থাকে । পিসিদের একতলা দোতলা মিলিয়ে প্রায় ছ’টা ঘর । নিচে পিসেমশাইয়ের বৈঠকখানা ছাড়াও আরেকটা ঘর আছে । তাছাড়া রান্নাঘর ,বাথরুম। কাজের মেয়েদের থাকার জন্য আরও দুটো ঘর আলাদা করা আছে বাগানের দিকে । দোতলায় চারটে ঘর ,ঠাকুরঘর , গোল গাড়ি বারান্দা , বড়ো দালান , বাথরুম …ছাদের সিঁড়ি।

………………………………………………………………………………………………………………………………………………..ক্রমশ

  
This entry is part 6 of 10 in the series মনমাঝি

পর্ব—৬। _________________________________________________________________________________________________

সেই কোন কাকভোরে বাবা আর পিসেমশাই বেরিয়ে গেছে। রাঙাপিসি পুজো সেরে শিমুলের ঘরে এলো …শিমুল তখনও শুয়েছিল খবরের কাগজ নিয়ে। রাঙপিসি বলল “কিরে এখনো শুয়ে আছিস… নে ওঠ , চিন্তা চা নিয়ে আসছে, ওঠ ওঠ…” রাঙাপিসি শিমূলের মাথায় হাত রাখলো …শিমুল রাঙ্গাপিসির হাত ধরে বলল “বোসো না একটু …”পিসি খাটের এক কোণায় বসতেই শিমুল পিসির কোলে মাথা রেখে মুখটা গুঁজে পিসিকে জড়িয়ে ধরলো । শিমুল বরাবর এমনটাই আদুরে । রাঙাপিসি বলল……
“হ্যাঁ রে সবাইকে ছেড়ে এতদূরে চলে যাবি তোর মনকেমন করবে না?”

…………………………………………………………………………………………………………………………ক্রমশ

 

  
This entry is part 7 of 10 in the series মনমাঝি

 

পর্ব-৭। ________________________________________________________________________________________________

রুবনদা যত কাছে আসতে লাগলো শিমুলের অস্বস্তিটা যেন আরও বেড়েই চললো…ক্রমশ শ্বাসটা বন্ধ হয়ে যেতে লাগলো ।রুবনদার চোখের দিকে তাকাতে একটা গভীর লজ্জা আর অপরাধ বোধ কাজ করছে,কিন্তু কেন? সে তো কোনও অন্যায় করেনি,তবু যেন তার নিজেকে বড়ো অসহায় লাগছে…কানটা গরম হয়ে আসছে …ঘাড়ের কাছে একটা শিরশিরানি তার কাঁধ ছুঁয়ে শিঁরদাড়া বেয়ে নেমে যাচ্ছে ।

………………………………………………………………………………………………………………………………………..ক্রমশ

  
This entry is part 8 of 10 in the series মনমাঝি

পর্ব-৮। _________________________________________________________________________________________________

শিমুলের কথা আগে যে কোনওদিন রুবন ভাবেনি এমন নয়,বহুবার তার মনে হয়েছে, ‘শিমুলকে একটা ফোন করি’…কিন্তু ছোটো মেয়ে, যতই হোক মনে একটা আঘাত তো পেয়েছিল , হয়ত নিজের পরিচিত পরিবেশে গিয়ে সেটা ভুলেই যেতে চেষ্টা করবে, পাছে ফোন করলে যদি হিতে বিপরীত হয় … এই ভেবেই শিমুলের সাথে আর তার যোগাযোগ করা হয় নি। কিন্তু যত দিন গেছে আর সময় এগিয়েছে তার মনে হয়েছে, ……

………………………………………………………………………………………………………………………………………………….ক্রমশ

  
This entry is part 9 of 10 in the series মনমাঝি

This content is password protected. To view it please enter your password below:

  
This entry is part 10 of 10 in the series মনমাঝি

This content is password protected. To view it please enter your password below:

  
PAGE TOP
HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.