পাঠ প্রতিক্রিয়া

স্মৃতিকণা মিত্রের কলমে————-

মনমাঝি

শেষমেষ পড়ে ফেললাম মনমাঝি। আমার মত সাত কাজে মাথা লাগানো মানুষ যে শুধু উপন্যাসটি পড়লো, তাই নয় — কাহিনী নিয়ে দুচার কথা, লিখিয়েও নিল লেখিকা ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়ের অসাধারন কাহিনী বিন্যাস। কি বলব, ঐন্দ্রিলা অসাধারণ লেগেছে তোমার লেখা। পড়তে পড়তে কোথায় যেন মনে হয়েছে আমিই শিমুল, আবার মনে হয়েছে আমিই রাঙাপিসি। এ এক অদ্ভুত জটিল মনস্তাত্ত্বিক দিক। সত্যি কাহিনী তো এমনি হয়,কিন্তু এর মাঝে যে দর্শনকে তুমি তুলে ধরতে চেয়েছ, তাই তো চিরকালীন সত্য। কি অসামান্য দক্ষতায় তুমি গীতার কর্মযোগকে আমাদের নিত্যদিনের জীবনবোধ, তার মূল্য ও তার প্রভাবের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছো, তা বলে বোঝাতেই পারব না। সত্যি বলতে বিশ্বাস করো, আমি আর আমার নাতনী মিতিন দুজনেই মোহিত হয়ে পড়েছি, অথচ দেখো মিতিন পনেরো আর আমি পঁয়ষট্টি— কিন্তু ভালোলাগা দুজনেরই উপুর্যুরি। দুজনেই গল্পের মাঝে ভাবতে বসেছিলাম ‘সত্যি তো যে শিমূল জঙ্গল ভালোবাসে, নদী ভালোবাসে, মেঠো সুর ভালোবাসে, হঠাৎ কোন সে অভিমান তাকে তার এমন সহজিয়া জীবন ছেড়ে নিয়ে যেতে চাইছে বিদেশের ঝাঁ চকচকে শহুরে আপোষের জীবনে?’ সত্যিই ‘একদিকে শিমুলের ভালোলাগা – অপেক্ষা- স্বপ্ন আর অন্যদিকে তার আপোষ-অভিমান – লড়াই , তার ভালোবাসার একাল আর সেকাল, যার টানাপোড়েনে সার্থক তোমার ‘মনমাঝি’। প্রতিটি চরিত্র ফুলমনি, রূপসা, রুবন পলাশ অভ্রনীল —এতো জীবন্ত, এতো বলিষ্ঠ ভাবা যায় না। আর সত্যি বলতে বইটির প্রচ্ছদের মধ্যেও কেমন যেন একটা কৌতূহল থেকে যায়। পলাশ ফুলের রঙ আর বৈরাগ্যের পরশ তোমার বইটির প্রচ্ছদের রঙের সাথেও সমান তাৎপর্য রাখে। আমার নাতনী মিতিনের কথায় ‘স্মার্ট লুকিং বুক’। প্রথম দুটো পরিচ্ছদের পর থেকে, দম ফেলার ফুরসৎ পাইনি। রোহিনী গ্রামের আর বেলপাহাড়ি অঞ্চলের সাঁওতালি মানুষজনের যে যাপনকথা তুমি অনায়াসে তুলে ধরেছ, তা কোথায় যেন বুদ্ধদেব গুহ মহাশয়ের গল্পের স্বাদ এনে দিয়েছে। আবার অহনা আর অভ্রর মাঝে শিমুলের সংলাপের ধারাবাহিকতা সুচিত্রা ভট্টাচার্য দিদির লেখার ধারাকে মনে করিয়ে দিয়েছে।একবারের জন্যও মনে হয়নি এ তোমার প্রথম লেখা উপন্যাস। সত্যি বলছি ঐন্দ্রিলা তুমি আর তোমার মনমাঝি আমাদের দুই প্রজন্মকে একসূত্রে বেঁধে ফেলেছো। তুমি অনেক অনেক বড়ো হও আর এভাবেই লিখে যাও। আর পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখ না, শুধু সামনে তাকাও। আর আমরা তোমার সৃষ্টি এমন করেই ছুঁয়ে উপভোগ করি, আর ভালোলাগা নিই।

#মনমাঝি
কলম- ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়
প্রকাশিক- দ্য কাফে টেবিল
প্রচ্ছদ- একতা ভট্টাচার্য

  

মনমাঝির প্রথম পাঠ প্রতিক্রিয়া :

প্রকাশক অভিষেক আইচের কলমে—-

মনমাঝি 

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ‘ঐ মুখ’ নামের ওয়েবসাইটে নিজের লেখালিখিতে নিমগ্ন তিনি। হঠাৎ নজর পড়ে আমাদের। একটি উপন্যাসকে ঘিরে পাঠকদের মধ্যে আমরা দেখতে পাই ঔৎসুক্য। ওয়েবসাইটের পাঠকেরা চাইছিলেন বিষয়টি গ্রন্থাকারে প্রকাশ হোক। বিগত দেড় বছর ধরে উপন্যাসকে পরিমার্জনা করলেন ঐন্দ্রিলা। জন্ম হল নতুন এক উপন্যাসের। চিরপ্রণম্য বুদ্ধদেব গুহ-র সার্থক উত্তরসূরি ঐন্দ্রিলা। কেন এত বড় কথাটা বলা হল, একটু আভাস থাকল এখানে—

প্রকৃতি আর প্রেম চিরকাল আবিষ্ট করে রাখে আমাদের জীবন, আমাদের যাপন। মনের অন্ত্যমিলে নিরন্তর জারি থাকে সমকালীন এক খোঁজ!
কলকাতার মেয়ে শিমুল এক বসন্তের সকালে পা রেখেছিল অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামে রাঙাপিসির বাড়িতে। সেখানকার মোহময়ী প্রকৃতির ছোঁয়ায়, ষোড়শী শিমুলের শরীরে-মনে ছড়িয়ে পড়েছিল ফাগুনের আগুন। তবে সত্যি বলতে ঝাড়গ্রাম তাকে প্রেম দিয়েছিল যেমন অকাতরে, তেমনি তার সেই ভালোবাসার নেশায় মাখিয়ে দিয়েছিল একরাশ বিষাদ। একসময় জীবন বাঁক নিয়েছিল নতুন খাতে। সেদিনের সেই কিশোরী শিমুল ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল বাসন্তীর এক গ্রামীণ স্কুলের শিক্ষিকা। যার অনুভবে শুধুই নেশাতুর সবুজের হাতছানি আর গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কিছু করতে চাওয়ার বাসনা। কিন্তু যে শিমূল জঙ্গল ভালোবাসে, নদী ভালোবাসে, মেঠো সুর ভালোবাসে, হঠাৎ কোন সে অভিমান তাকে তার এমন সহজিয়া জীবন ছেড়ে নিয়ে যেতে চাইছিল বিদেশের ঝাঁ চকচকে শহুরে কেতার আপোষের জীবনে? সে কি বিদেশের প্রতি আকর্ষণ নাকি নির্বাসন? ঝাড়গ্রামের পলাশের গৈরিক রঙ -এর মাঝে সে কি খুঁজেছিল শেষমেশ , ভালোবাসার আগুন নাকি বৈরাগ্যের ছোঁয়া??একদিকে শিমুলের ভালোলাগা-অপেক্ষা-স্বপ্ন আর অন্যদিকে তার আপোষ-অভিমান-লড়াই, মূলত তার ভালোবাসার একাল আর সেকাল, তার জীবন নদীর দুই পাড়ের টানাপোড়েনে তার মন রূপ মাঝি বেছে নেবে কোন সে পথ? যা সমকালীন হয়েও চিরকালীন!!

প্রকৃতির বুকে এ এক অন্যধারার প্রেমজ উপাখ্যান।
……

****************************
Thanks to ‘The Cafe Table’

লিংকঃ

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2048653371895455&id=100002524379244

  
This entry is part 10 of 10 in the series মনমাঝি
Monmajhi/oimookh.com

মনমাঝি-ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়  Monmajhi/oimookh.com

মনমাঝি / প্রচ্ছদশিল্পী: একতা ভট্টাচার্য

থৈ থৈ নদী জলে, সিঁড়ি কোনাকুনি
ভরা নদী কথা কয়, কান পেতে শুনি
নদী চরে এল নাও, বহু কাল পরে
মনমাঝি না ডাকিলে, কে বা পার করে?

কলকাতার মেয়ে শিমূল …..ঝাড়গ্রামে রাঙাপিসির বাড়িতে গিয়ে সেখানকার প্রকৃতিতে বিভোর হয়ে পড়ে।

ঝাড়গ্রামের রূপময় প্রকৃতির নেশাতুর হাতছানি তার মনের অতলে যে রং ধরিয়েছিল সেই কাহিনীর বিন্যাসই এই গল্পের শিরোনাম ….

 

প্রকৃতির বুকে এ এক অন্যধারার প্রেমজ উপাখ্যান।

মনমাঝি
ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়

প্রকাশক: দ্য কাফে টেবল
প্রচ্ছদশিল্পী: একতা ভট্টাচার্য

সম্ভাব্য প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০১৯।

  
মনমাঝি-ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় Monmajhi/oimookh.com
This entry is part 9 of 10 in the series মনমাঝি

‘ঐ মুখ’ ( oimookh.com ) নামের আড়ালে আমি লেখালিখির সাথে যুক্ত প্রায় পনেরো বছর। কিন্তু তা যে কোনদিন বই আকারে দুমলাটের মাঝে বেরোবে এ স্বপ্ন আমি জেগে কেন, ঘুমিয়েও দেখিনি। প্রতিটি লেখা তো লেখকের কাছে সন্তানতুল্য, তাই তাদের সঠিক পরিচয়দানের আবশ্যিকতা নিশ্চয় আছে , –এই বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি আমাকে ভাবিয়েছেন তিনি আর কেউ নন , পরম মিত্র The Cafe Table এর অন্যতম কর্ণধার Avishek Aich। তাই তাঁর প্রতি আমার অন্তহীন শ্রদ্ধা রইল । সাথে সাথে অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই ‘দ্য কাফে টেবিলে’র আরো এক কর্ণধার অরিজিৎ ভদ্র ও প্রচ্ছদ শিল্পী Ekta Bhattacharjee কেও। সবশেষে এইটুকুই বলি আমার অনেক লেখার মধ্যে থেকে যে কাহিনী বিন্যাসটি “মনমাঝি” শিরোনামে প্রকাশিত হতে চলেছে , তার তাগিদ , এক অন্য কাহিনী যার শিরোনাম জীবন।

*************************************************************************************

Monmajhi/oimookh.com

মনমাঝি-ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় Monmajhi/oimookh.com

প্রকৃতি আর প্রেম চিরকাল আবিষ্ট করে রাখে আমাদের জীবন, আমাদের যাপন। মনের অন্ত্যমিলে নিরন্তর জারি থাকে সমকালীন এক খোঁজ!

কলকাতার মেয়ে শিমুল এক বসন্তের সকালে পা রেখেছিল অরন্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামে রাঙাপিসির বাড়িতে। সেখানকার মোহময়ী প্রকৃতির ছোঁয়ায়, ষোড়শী শিমুলের শরীরে মনে ছড়িয়ে পড়েছিল ফাগুনের আগুন। সত্যি বলতে ঝাড়গ্রাম তাকে প্রেম দিয়েছিল যেমন অকাতরে, তেমনি তার সেই ভালোবাসার নেশায় মাখিয়ে দিয়েছিল একরাশ বিষাদ। একসময় জীবন বাঁক নিয়েছিল নতুন খাতে। সেদিনের সেই কিশোরী শিমুল ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল বাসন্তীর এক গ্রামীণ স্কুলের শিক্ষিকা। যার অনুভবে শুধুই নেশাতুর সবুজের হাতছানি আর গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কিছু করতে চাওয়ার বাসনা। সেই ইচ্ছেটুকুকে সম্বল করে গড়ে তুলেছিল এক সংগঠন। যা ছিল তার জীবনে হাজার বন্ধকের মাঝে মুক্তি। কিন্তু হঠাৎ কোন সে অভিমান তাকে তার এমন সহজিয়া জীবন ছেড়ে নিয়ে যেতে চাইল বিদেশের ঝাঁ চকচকে শহুরে কেতার জীবনে? যে শিমূল জঙ্গল ভালোবাসে, নদী ভালোবাসে,মেঠো সুর ভালোবাসে,সে কেন বাধা পড়তে চাইছে আপোষের জীবনে। সেকি বিদেশের প্রতি আকর্ষণ নাকি স্বেচ্ছা নির্বাসন? ঝাড়গ্রামের পলাশের গৈরিক রঙ -এর মাঝে সে কি খুঁজেছিল, ভালোবাসার আগুন নাকি বৈরাগ্যের ছোঁয়া?? শিমুল, তার ভালোলাগা-অপেক্ষা-স্বপ্ন আর তার আপোষ-অভিমান-লড়াই, মূলত তার ভালোবাসার একাল আর সেকাল, তার জীবন নদীর দুইপাড়ের টানাপোড়েনে তার মন রূপ মাঝি বেছে নেবে কোন সে পথ? যা সমকালীন হয়েও চিরকালীন??

প্রকৃতির বুকে এ এক অন্যধারার প্রেমজ উপাখ্যান

মনমাঝি
ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়

প্রকাশক: দ্য কাফে টেবল
প্রচ্ছদশিল্পী: একতা ভট্টাচার্য

সম্ভাব্য প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০১৯।

This entry is part 1 of 10 in the series মনমাঝি
amar satkahon/oimookh.com

মনমাঝি -ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় monmajhi/oimookh.com

 

পর্ব—১। ____________________________________________________________________________

                রাঙাপিসিকে প্রণাম করে মুখটা তুলতেই তিনি শিমূলকে জড়িয়ে ধরলেন… “বাব্বা এতদিনে মনে পড়ল তবে পিসিকে? দেখতে দেখতে বিয়ের বয়স হয়ে গেল…ভাবা যায় সেই শিমূল! কি সুন্দর দেখতে লাগছে রে তোকে !” … পিসির এমন মন ভোলানো কথায় শিমূলের মুখে একটা হালকা হাসি খেলে গেল। সুর্য তখনও মধ্যগগনে পা রাখে নি।তবুও রোদের তাপ কিছু কম লাগছে না…কোলকাতায় শীত যদিও বিদায় নিয়েছে,কিন্তু এখানে প্রচ্ছন্ন একটা শীতের আমেজ আছে এখনও। পিসি বললেন “চল ,ওপরে চল তোরা ,হাত মুখ ধুয়ে কিছু মুখে দে দিকিনি।”

……………………..……………………..……………………..…ক্রমশ

 

  
This entry is part 2 of 10 in the series মনমাঝি
amar satkahon/oimookh.com

মনমাঝি -ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় Monmajhi /oimookh.com

 

 

পর্ব—২। __________________________________________________________________________________________

 

পাশের ঘরে বাবা আর রাঙাপিসির কথা শুনতে শুনতে শিমূল কেমন যেন একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। দূরে জানলার বাইরে একটা কোকিল সমানে ডেকে যাচ্ছে। জানলা দিয়ে তাকালে একটা আমগাছ দেখতে পাওয়া যায় । এই গাছটার ফল খুব মিষ্টি , শিমূল জানে গাছটার নাম আম্রপালি। তার বেশ মনে আছে এই গাছেরই ছোটো ছোটো ভাঙা ডাল কুড়িয়ে সে আর রুবানদা একবার চাঁচর বানিয়েছিল দোলের সময় , সেই যেবার মাধ্যমিক পরীক্ষার পর এখানে এসে থেকেছিল কিছু দিন ।

………………………………………………………………………………………………………………………………………………ক্রমশ

 

 

  
This entry is part 3 of 10 in the series মনমাঝি
amar satkahon/oimookh.com

 মনমাঝি-ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়  Monmajhi/oimookh.com

পর্ব—৩। ___________________________________________________________________________________________

ঝাড়গ্রাম রেলস্টেশন থেকে বেশ খানিকটা রাস্তা এগিয়ে এসে, বাঁক নিলেই লালগড় রোড । ঝাড়গ্রাম মিউনিসিপ্যালিটির অফিস, সরকারি হসপিটাল এসব ছাড়িয়ে, বাঁদিকে মোড় নিয়ে হাই রোডে এসে পড়ল রুবন আর শিমূল। এন.এইচ-সিক্স থেকে ডান দিকে বাঁকলে রগড়া রোড, সেখান থেকে যত সামনের দিকে এগোতে থাকল লোকালয় পেরিয়ে রাস্তা ক্রমশ ফাঁকা হতে থাকল …চড়া রোদের মধ্যে কেমন যেন একটা ঠান্ডা গরম হাওয়ার মেলবন্ধন… রুবনদার কথায় জানা গেল সামনেই লোধাসুলি, বেশ বড়োসড়ো একটা জঙ্গল।ঘন জঙ্গলের এমাথা ওমাথা ঠাওর করা যায় না ।মাঝে শুধু দুএকটা চেক পোষ্ট পড়ে, রাস্তার দুধারে শুধু গহীন জঙ্গল …..এমন সে অন্ধকার যে বাইরে থেকে কিছু চোখে পড়বার জো নেই….

…………………………………………………………………………………………………………………………………ক্রমশ

  
This entry is part 4 of 10 in the series মনমাঝি
Monmajhi/oimookh.com

মনমাঝি -ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় Monmajhi/oimookh.com

পর্ব—৪

_________________________________________________________________________

সত্যিই ঝাড়গ্রাম শিমূলের জীবনটাকে বদলে দিয়েছিল অনেকটা। তার উড়ু উড়ু মনটাকে নিবদ্ধ করেছিল একটা স্থির লক্ষ্যের দিকে। কিছু করতে চাওয়ার একটা গভীর বাসনা তাকে এমনভাবে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছিল যে এস.এস.সি তে সবাই যখন চাকরীর জন্য নিজের বাড়ির কাছকাছি অঞ্চল খুঁজেছিল, সে তখন স্বেচ্ছায় যেতে চেয়েছিল সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকে ।কোলকাতা ছেড়ে এতদূরে, বাড়ির বাইরে একা থেকে স্কুলে পড়ানোর ব্যাপারে সবাই আপত্তি করেছিল । কিন্তু গ্রামবাংলার নেশা ,সাধারন মানুষগুলোর জন্যে কিছু করতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছা …সর্বোপরি রুবনের প্রতি অগাধ এক শ্রদ্ধা , তাকে উত্সাহিত করেছিল এমন একটা জীবন বেছে নিতে।

………………………………………………….. ক্রমশ 

 

 

  
This entry is part 5 of 10 in the series মনমাঝি
Monmajhi/oimookh.com

মনমাঝি -ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় Monmajhi/oimookh.com

পর্ব—৫। _____________________________________________________________________________

রাতে খাওয়া দাওয়ার পর রাঙাপিসি গাড়ি বারান্দার কোণের দিকের ঘরটায় বাবার শোওয়ার বন্দোবস্ত করল । শিমূলের হাতে সাদা প্রিন্টেড বেডশীট আর পিলোকভার বার করে দিল আলমারি থেকে । শিমূল জানে ওই ঘরটা আগে রুবনদার ছিল।এখন সে আর থাকে না বলে ঘরটা ফাঁকাই থাকে । পিসিদের একতলা দোতলা মিলিয়ে প্রায় ছ’টা ঘর । নিচে পিসেমশাইয়ের বৈঠকখানা ছাড়াও আরেকটা ঘর আছে । তাছাড়া রান্নাঘর ,বাথরুম। কাজের মেয়েদের থাকার জন্য আরও দুটো ঘর আলাদা করা আছে বাগানের দিকে । দোতলায় চারটে ঘর ,ঠাকুরঘর , গোল গাড়ি বারান্দা , বড়ো দালান , বাথরুম …ছাদের সিঁড়ি।

………………………………………………………………………………………………………………………………………………..ক্রমশ

  
This entry is part 6 of 10 in the series মনমাঝি
Monmajhi/oimookh.com

মনমাঝি -ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় Monmajhi/oimookh.com

পর্ব—৬। _________________________________________________________________________________________________

সেই কোন কাকভোরে বাবা আর পিসেমশাই বেরিয়ে গেছে। রাঙাপিসি পুজো সেরে শিমুলের ঘরে এলো …শিমুল তখনও শুয়েছিল খবরের কাগজ নিয়ে। রাঙপিসি বলল “কিরে এখনো শুয়ে আছিস… নে ওঠ , চিন্তা চা নিয়ে আসছে, ওঠ ওঠ…” রাঙাপিসি শিমূলের মাথায় হাত রাখলো …শিমুল রাঙ্গাপিসির হাত ধরে বলল “বোসো না একটু …”পিসি খাটের এক কোণায় বসতেই শিমুল পিসির কোলে মাথা রেখে মুখটা গুঁজে পিসিকে জড়িয়ে ধরলো । শিমুল বরাবর এমনটাই আদুরে । রাঙাপিসি বলল……
“হ্যাঁ রে সবাইকে ছেড়ে এতদূরে চলে যাবি তোর মনকেমন করবে না?”

…………………………………………………………………………………………………………………………ক্রমশ

 

  
PAGE TOP
HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.