মনমাঝির প্রথম পাঠ প্রতিক্রিয়া :

প্রকাশক অভিষেক আইচের কলমে—-

মনমাঝি 

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ‘ঐ মুখ’ নামের ওয়েবসাইটে নিজের লেখালিখিতে নিমগ্ন তিনি। হঠাৎ নজর পড়ে আমাদের। একটি উপন্যাসকে ঘিরে পাঠকদের মধ্যে আমরা দেখতে পাই ঔৎসুক্য। ওয়েবসাইটের পাঠকেরা চাইছিলেন বিষয়টি গ্রন্থাকারে প্রকাশ হোক। বিগত দেড় বছর ধরে উপন্যাসকে পরিমার্জনা করলেন ঐন্দ্রিলা। জন্ম হল নতুন এক উপন্যাসের। চিরপ্রণম্য বুদ্ধদেব গুহ-র সার্থক উত্তরসূরি ঐন্দ্রিলা। কেন এত বড় কথাটা বলা হল, একটু আভাস থাকল এখানে—

প্রকৃতি আর প্রেম চিরকাল আবিষ্ট করে রাখে আমাদের জীবন, আমাদের যাপন। মনের অন্ত্যমিলে নিরন্তর জারি থাকে সমকালীন এক খোঁজ!
কলকাতার মেয়ে শিমুল এক বসন্তের সকালে পা রেখেছিল অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামে রাঙাপিসির বাড়িতে। সেখানকার মোহময়ী প্রকৃতির ছোঁয়ায়, ষোড়শী শিমুলের শরীরে-মনে ছড়িয়ে পড়েছিল ফাগুনের আগুন। তবে সত্যি বলতে ঝাড়গ্রাম তাকে প্রেম দিয়েছিল যেমন অকাতরে, তেমনি তার সেই ভালোবাসার নেশায় মাখিয়ে দিয়েছিল একরাশ বিষাদ। একসময় জীবন বাঁক নিয়েছিল নতুন খাতে। সেদিনের সেই কিশোরী শিমুল ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল বাসন্তীর এক গ্রামীণ স্কুলের শিক্ষিকা। যার অনুভবে শুধুই নেশাতুর সবুজের হাতছানি আর গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কিছু করতে চাওয়ার বাসনা। কিন্তু যে শিমূল জঙ্গল ভালোবাসে, নদী ভালোবাসে, মেঠো সুর ভালোবাসে, হঠাৎ কোন সে অভিমান তাকে তার এমন সহজিয়া জীবন ছেড়ে নিয়ে যেতে চাইছিল বিদেশের ঝাঁ চকচকে শহুরে কেতার আপোষের জীবনে? সে কি বিদেশের প্রতি আকর্ষণ নাকি নির্বাসন? ঝাড়গ্রামের পলাশের গৈরিক রঙ -এর মাঝে সে কি খুঁজেছিল শেষমেশ , ভালোবাসার আগুন নাকি বৈরাগ্যের ছোঁয়া??একদিকে শিমুলের ভালোলাগা-অপেক্ষা-স্বপ্ন আর অন্যদিকে তার আপোষ-অভিমান-লড়াই, মূলত তার ভালোবাসার একাল আর সেকাল, তার জীবন নদীর দুই পাড়ের টানাপোড়েনে তার মন রূপ মাঝি বেছে নেবে কোন সে পথ? যা সমকালীন হয়েও চিরকালীন!!

প্রকৃতির বুকে এ এক অন্যধারার প্রেমজ উপাখ্যান।
……

****************************
Thanks to ‘The Cafe Table’

লিংকঃ

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2048653371895455&id=100002524379244

  

পাঠ প্রতিক্রিয়া

স্মৃতিকণা মিত্রের কলমে————-

মনমাঝি

শেষমেষ পড়ে ফেললাম মনমাঝি। আমার মত সাত কাজে মাথা লাগানো মানুষ যে শুধু উপন্যাসটি পড়লো, তাই নয় — কাহিনী নিয়ে দুচার কথা, লিখিয়েও নিল লেখিকা ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়ের অসাধারন কাহিনী বিন্যাস। কি বলব, ঐন্দ্রিলা অসাধারণ লেগেছে তোমার লেখা। পড়তে পড়তে কোথায় যেন মনে হয়েছে আমিই শিমুল, আবার মনে হয়েছে আমিই রাঙাপিসি। এ এক অদ্ভুত জটিল মনস্তাত্ত্বিক দিক। সত্যি কাহিনী তো এমনি হয়,কিন্তু এর মাঝে যে দর্শনকে তুমি তুলে ধরতে চেয়েছ, তাই তো চিরকালীন সত্য। কি অসামান্য দক্ষতায় তুমি গীতার কর্মযোগকে আমাদের নিত্যদিনের জীবনবোধ, তার মূল্য ও তার প্রভাবের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছো, তা বলে বোঝাতেই পারব না। সত্যি বলতে বিশ্বাস করো, আমি আর আমার নাতনী মিতিন দুজনেই মোহিত হয়ে পড়েছি, অথচ দেখো মিতিন পনেরো আর আমি পঁয়ষট্টি— কিন্তু ভালোলাগা দুজনেরই উপুর্যুরি। দুজনেই গল্পের মাঝে ভাবতে বসেছিলাম ‘সত্যি তো যে শিমূল জঙ্গল ভালোবাসে, নদী ভালোবাসে, মেঠো সুর ভালোবাসে, হঠাৎ কোন সে অভিমান তাকে তার এমন সহজিয়া জীবন ছেড়ে নিয়ে যেতে চাইছে বিদেশের ঝাঁ চকচকে শহুরে আপোষের জীবনে?’ সত্যিই ‘একদিকে শিমুলের ভালোলাগা – অপেক্ষা- স্বপ্ন আর অন্যদিকে তার আপোষ-অভিমান – লড়াই , তার ভালোবাসার একাল আর সেকাল, যার টানাপোড়েনে সার্থক তোমার ‘মনমাঝি’। প্রতিটি চরিত্র ফুলমনি, রূপসা, রুবন পলাশ অভ্রনীল —এতো জীবন্ত, এতো বলিষ্ঠ ভাবা যায় না। আর সত্যি বলতে বইটির প্রচ্ছদের মধ্যেও কেমন যেন একটা কৌতূহল থেকে যায়। পলাশ ফুলের রঙ আর বৈরাগ্যের পরশ তোমার বইটির প্রচ্ছদের রঙের সাথেও সমান তাৎপর্য রাখে। আমার নাতনী মিতিনের কথায় ‘স্মার্ট লুকিং বুক’। প্রথম দুটো পরিচ্ছদের পর থেকে, দম ফেলার ফুরসৎ পাইনি। রোহিনী গ্রামের আর বেলপাহাড়ি অঞ্চলের সাঁওতালি মানুষজনের যে যাপনকথা তুমি অনায়াসে তুলে ধরেছ, তা কোথায় যেন বুদ্ধদেব গুহ মহাশয়ের গল্পের স্বাদ এনে দিয়েছে। আবার অহনা আর অভ্রর মাঝে শিমুলের সংলাপের ধারাবাহিকতা সুচিত্রা ভট্টাচার্য দিদির লেখার ধারাকে মনে করিয়ে দিয়েছে।একবারের জন্যও মনে হয়নি এ তোমার প্রথম লেখা উপন্যাস। সত্যি বলছি ঐন্দ্রিলা তুমি আর তোমার মনমাঝি আমাদের দুই প্রজন্মকে একসূত্রে বেঁধে ফেলেছো। তুমি অনেক অনেক বড়ো হও আর এভাবেই লিখে যাও। আর পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখ না, শুধু সামনে তাকাও। আর আমরা তোমার সৃষ্টি এমন করেই ছুঁয়ে উপভোগ করি, আর ভালোলাগা নিই।

#মনমাঝি
কলম- ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায়
প্রকাশিক- দ্য কাফে টেবিল
প্রচ্ছদ- একতা ভট্টাচার্য

  
PAGE TOP
HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.