পাক্কা পনেরো বছর পর
আমার বাড়ির দরজায়
কেন এসে দাঁড়ালি তুই !
আমি জানি না।
তবু অকপটে তাকিয়ে দেখলাম,
ঠিক আগের মতোই আছিস তুই!
আগের মতোই অনিশ্চিত এক দমকা হাওয়া!
জীবনের উত্তরণ আজও কি বদলায় নি তোকে?

আমার সমস্ত ধারণাগুলোকে মিথ্যে প্রমাণ করে ,
একরাশ ভালোলাগা নিয়ে
মিনিট কয়েকের জন্য
স্মৃতির স্তর ভেঙে ভেঙে দুজনে
একসাথে পিছু হাঁটলাম অতীতে।

বন্ধ দরজার ঐ পাড়ে যখন আমি উদ্দাম বানভাসি
তুই তখন সুনামি হয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যেতিস আমায়!
মনে পড়ে ?
মনে পড়ে,
আমার অনর্গল কথার মাঝে আগল টেনে তুই বলতিস….
‘বাতাসে কান পেতে শোন
নীরবতাও কিছু বলবে…
নিকষ কালোর মাঝে চেয়ে দেখ
অন্ধকারও জড়িয়ে ধরবে!’

ঠিক … তুই ঠিক বলেছিলি ।
তাই বোধহয় বহুবার আমি
নিকষ কালো নৈঃশব্দে তোকে দেখেছি!
আর ভেবেছি তুই কি এখনও আগের মতোই আছিস!!!

আজও দেখলাম তোকে এত বছর পর,
চুপচাপ বসে রইলাম দুজনে মুখোমুখি
মেপে মেপে পোষাকি কথা মিনিট দশ
তবু তোর স্তব্ধ চাহনি বলে গেল কত কথা
যা আজও নিরুচ্চারেই রয়ে গেল….
ঠিক আগের মতোই!
শুধু মাঝে বয়ে গেল
কিছুটা বেহিসাবী সময়!!!!
ঠিক আগের মতোই!
কিন্তু একটা নতুন কথা শিখিয়ে গেলি আমাকে,
মনে রাখতে চাইলে ….
ঠিক মনে রাখা যায় !
এভাবেও!!!

  

 

তুমি ভোরবেলার সূর্য ওঠা দেখতে দেখতে
সারাদিনের কাজগুলো সাজিয়ে নাও।
সকালের প্রথম খোলা কাগজের ভাঁজে
সুগন্ধ নিতে নিতে….
সেনসেক্সের পাতায় রাখো চোখ!

আজও আমি ঠিক ভেবে পেলাম না
কতটা হিসেব কষলে তবে
ছন্দ আসে সংসারে ।
কতটা ঘরণী হলে সবাই
সুখের জন্যে সব পারে!!!

শোবার ঘরে জানলার কাঁচে চোখ রেখে
নিগ্রো আকাশটাকে দেখে
যখন ভাবি ‘একবার ভিজলে হত!’
ঠিক তখনই তুমি মুঠোফোনে ঝড় তুলে
স্টাডির জানলা বন্ধ করতে বলো ,
শাসনের সুরে ভিজতে বারণ করো ।
পাশের ঘর থেকে একরত্তি মেয়ে
মনে করিয়ে দেয় ‘বারান্দায় মেলা ভিজে জামা’।

ঘরের জানলা বন্ধ করে,
মেয়ের জামা তুলে রেখে,
আমি নির্লজ্জ নারী
পায়ে পায়ে আসি ছাদে….
খামখেয়ালী বৌ আর মায়ের তকমা এঁটে
এক আকাশ বৃষ্টি ভিজতে ভিজতে
মনে মনে হাসি আর ভাবি,
‘সবাই ঠিক বুঝে নিয়েছে
আমি কেমন আনাড়ী সংসারী !
আসলে ভালোবাসাটা একটা অভ্যেসমাত্র !!!’

______________________________________________oimookh.com

  

 

একটা বারও ভাববো না আর এলোমেলো।
সারাদিনে মিথ্যে অনেক ভাবনা আসে
ঘড়ির কাঁটা ,টুকরো ভুল,
ছেলেবেলার ভাঙা পুতুল !

ভাবনাগুলো ভাবতে ভাবতে
হারিয়ে গেছে অনেক সময়
হারিয়ে গেছে ছুটির দুপুর ….
লুকোনো আদর আর খুনসুটী।

এখন শুধুই শূন্যহাত….
হাত পাতলে এখন শুধুই কাটাকুটি!

ভেবে ভেবে শরীর জুড়ে ক্লান্তি আসে
মনের মধ্যে বিষের বাঁশি
ভালো লাগে না পোষাকি কথা
ভালো লাগে না চোখের কাজল
মিথ্যে হাসি আর সাজানো জেহাদ।

তাই একটা বারও ভাবতে চাই না এলোমেলো।
ভাবনাগুলো সরিয়ে রাখবো, এড়িয়ে চলবো
বাতিল করবো মন থেকে।
তবু কি আর ভুলতে পারবো?
মনের কোণে ফেলে রাখবো, গুছিয়ে তুলবো
ভাঙা চোরা পুতুল করে !

_________________________________________oimookh.com

  

 

ভাবছ বুঝি এমনি করেই
হারিয়ে যাবে?
এমনি করেই মুখ ঘুরিয়ে থাকবে
জীবন থেকে?
চাইলেই বুঝি এড়িয়ে যেতে পারো
গোপন ইচ্ছে ,
শীতের দুপুর,
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ,
আগুনের ছোঁয়াচ???
পারা ভালো, পারলে ভালো
কিন্তু দোহাই তোমায়
না পারলে নিজেকে দোষ দিও না!
ইচ্ছেগুলো আছে জানলেই বুঝবে,
এখনও তোমার মন আছে!
মনের সূক্ষ্মতা আছে!
আর আছে নদীময় ভালোবাসা
যার চরে সকলের অলক্ষ্যে
আরও একবার জাগতে পারে মহেঞ্জদারো
গজিয়ে উঠতে পারে স্বপ্নের বীজ
তুমি একবার চাইলেই!!!!
__________________________________________oimookh.com

  

 

একবার এক পাহাড়
আমায় স্বপ্ন দিল,
তার রূক্ষতাকে গলাতে হবে,
পাথরে ফুল ফোটাতে হবে!
সেই থেকে কত আলোকবর্ষ ধরে
আমি ভেঙেছি পাথর…
আর সময় ভেঙেছে আমাকে
তাই আমার দুচোখ জুড়ে
আজ শুধুই ভাঙনের নেশা…
যদিও এখন সেই পাহাড় গলে দীঘি
আর সেই দীঘি জলে পারিজাত
যার পাপড়ি শুকোলে নরম পালক!
আর সেই পালক আমার পাথুরে মনে ।

______________________________________________oimookh.com

  

ঠাকুরাসনে লক্ষ্মীর পাঁচালীর নিচে,

নীল খামে রাখা ক-বাবুর চিঠি।

চিঠিটা লিখে শেষবারের মতো

একটা কিং-সাইজ সিগারেট ধরিয়ে

ছাদে উঠেছিলেন ক-বাবু…

ভোরবেলা সূর্য প্রনাম সেরে,

তুলসীমঞ্চে জল দিতে গিয়ে

ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন

পাশেরবাড়ির ‘নিরুর মা’…

চিলেকোঠার ছাদের আলসে থেকে

ওড়নার ফাঁসে ঝুলন্ত ক-বাবুকে দেখে।

 

এরপর গোটা পাড়া এল, সাথে সাথে পুলিশও এল…

উদ্ধার হল ছেলেমেয়েকে লেখা

বিপত্নীক ক-বাবুর শেষ চিঠি,

সুইসাইড নোট…

‘আমি বিশ্বাস করি সততায় যে শান্তি

তা আর কোনও কিছুতেই নেই…

তাই যাবার আগে শেষ সত্যটা জানিয়ে যাই,

তোমাদের অবহেলায় নিজেকে ব্রাত্য ভাবতে ভাবতে

একা হয়ে যাওয়া এই আমি

তোমাদের কাজের মাসি বিন্দুবাসিনীর

নিকষ কালো পেটাই শরীর থেকে চোখ সরাতে সরাতে

নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে

একরাতে তার ইচ্ছের কাছে হেরে গেলাম…

তারপর মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে রেখে এলাম

তাকে তার গ্রামের বাড়ি।

ফিরে এসে অপরাহ্নের আলোয়,

তোমাদের মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হল

তার চোখে চোখ রাখার সাহসটুকুও আর নেই,

নিজেকে মানুষ বলার অধিকার আর বাঁচার ইচ্ছে

দুই-ই আমি চিরকালের মতো হারালাম!!!’

 

গোটা দুনিয়া যখন নষ্টামির হাত ধরে এগিয়ে চলছে

নিজের মত বাঁচতে চেয়ে নতুন কিছুকে জাপটে ধরছে

তখন লক্ষ্মীর পাঁচালীর নিচে রাখা

ক-বাবুর এমন স্বীকারোক্তি…

তাকে কেমন মানুষের খেতাব দেবে???

___________________________________________________________________________

  

এখন আর আমার কোনও অপেক্ষা নেই
নেই কোনও যুদ্ধ জয়ের টান…
এখন শুধু একমনে বসে
সম্পৃক্তায় তোমায় ছুঁয়ে যাওয়া।
এখন শুধুই চুপটি করে
তোমায় খুঁজে পাওয়া!
ঋতু আসে ঋতু যায়,
বয়ে যায় বসন্ত,…
তবু দিনের শেষে
ঘুমের দেশে
স্বপ্নপুরী নির্ণিমেষে,
পৌঁছে দেয় সে অনায়াসে
তোমার মুখোমুখি ।
এখন শুধুই চুপটি করে
তোমায় জানতে চাওয়া
এখন আর আমার কোনও শোক নেই,
নেই কিছু হারিয়ে ফেলার ব্যাথা!
এখন শুধুই শান্ত মনে
তোমায় দেখতে পাওয়া…..

  

 

এখন ভেবে আর কি লাভ বলো!
অলক্ষ্মীরও যে একটা মন ছিল
একটা স্বপ্ন ছিল….
বিপ্লব ছিল….
ছিল একটা গোপন প্রেমের আঁচ,
সে কি আর মানলে তোমরা!!
সবাই মিলে তার বুকের আগুনে
জল ঢেলে ,
লক্ষ্মীর আগমনে উল্লাস করলে,
বিদেয় দিলে তাকে…
চাপা দিলে মনের আগুন।
মুছে ফেললে অলক্ষ্মীর পায়ের ছাপ
আগামীর পাঁচালী থেকে।
আসলে কি জানো?
তোমরা যাকে লক্ষ্মী বলো,
জীবন বলে জল….
সমাজ ভাবে নদী
নদী মানেই নারী,
পোষাকি কৃতদাসী!!!
তোমার সুরে যে মেলাবে সুর,
যে পাত্রেই রাখবে
ধারণ করবে তার আধার!
কিন্তু সেই জলের গভীরে
ধিকি ধিকি তুষের আগুন দেখলে
সত্যি বলো পোড়ার ভয় পাও না?
চমকে ওঠে না তোমাদের পৌরুষ?
সমাজ যা বলে বলুক…
তোমরা হাত বাড়াও না
তার ছাই চাপা আগুনে?
চোরাচোখে দেখো না তার লাস্য?
নিজের বুকে হাত রেখে প্রশ্ন করো দেখি,
মিথ্যে লক্ষ্মীমন্তের নেশায় আর
অসম্ভবের জ্বালায় তাকেই তো ভাবো ,
নষ্টমনা , সব্বনাশী….অলক্ষ্মী !!!

  

 

ছিলাম আমি ভোরের আলোয়
ছিলাম আমি বকুল ফুলে…
তবু দিন পোহালে নদীর জলে
খুঁজে বেড়াস মনের ভুলে!

ছিলাম আমি প্রদীপ শিখায়
ছিলাম আমি অস্তরাগে ;
তবু অন্ধকারে একলা পালাস
বেহাগ সুরে রাত্রি জাগে!

ছিলাম আমি সেইখানেতেই
ছিলাম আমি মধ্যযামে…
তবু গায়ের জোরে স্বপ্ন সাজাস
খুঁজলে পেতিস রামরহিমে॥

  

 

দিন দিন কেমন স্থবির হয়ে যাচ্ছে সব
বিবেক বুদ্ধিগুলোতে জঙ ধরে যাচ্ছে কি?
মাথার মধ্যে এক অসহ্য যন্ত্রণা বুঝিয়ে দিচ্ছে ,
শব্দেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়তে চাইছে
অনুভূতির প্রলম্বিত যানজটে….
তীব্র আস্ফালনে জেহাদ জানাচ্ছে মন ও আত্মা !
ভাবনার সহজাত নদীপথ হারাচ্ছে তার নাব্যতা,
ঘনীভূত হচ্ছে বেয়াড়া পলিস্তর।
তবু তোমার দিকে অপলকে চাইলে
মনের তটে আজও খেলে বিদ্যুৎ…
সহ্যশক্তিরা মানে বশ্যতা,
কুন্ডলিনী জেগে ওঠে শরীরের ঋদ্ধ গুহায়!
মনিপুরা চক্রে বইতে থাকে শান্ত স্রোতস্বিনী।
আমার সমস্ত দীনতার গ্লানি সমাহিত হয় তোমার মাঝে!
বদ্ধ পাঁজরের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে
কে যেন বলে ওঠে ‘ শান্তি শান্তি শান্তি ওম্’।
আর আমি অস্ফুটে বলি,
তুমি আমার সর্বস্ব নাও গোঁসাই
শুধু ‘আমার আমিকে’ আরও একবার
ফিরিয়ে দাও ঠিক আগের মত!!!!

  
PAGE TOP
HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.