This entry is part 1 of 1 in the series ভোরাই
  • ভোরাই

বানীব্রত গুপ্ত নামটার মধ্যে যে একটা রাশভারি ভাব আছে , আসলে কিন্তু তিনি আদৌ অমন গম্ভীর ধাঁচের মানুষই নন । সহজ সরল হাসিখুশি এক অনুভুতিপ্রবন মানুষ বলতে যা বোঝায় , বানীব্রত ঠিক তেমনি একজন।যদিও অবশ্য তার এই পোশাকি নামটার বাইরে তার ভাইবোন, পাড়া-প্রতিবেশি, নাটকের গ্রুপ, এমনকি অফিসে পর্যন্ত তিনি ‘বানীদা’ নামেই পরিচিত। বানীদা যেমন এক ভীষন আত্ম-অভিমানী মানুষ তেমনি তার মনের গভীরে তিনি কিন্তু চরম স্বপ্নিল ভালবাসাময় এক পুরুষ।

এহেন বানীদার প্রায়শঃই সকাল শুরু হয় সরমার দাঁতখিঁচুনি দিয়ে । সরমা তার প্রানাধিক প্রিয় ইস্ত্রি – থুড়ি স্ত্রী। কিন্তু সময় যেন সরমার মধ্যের সমস্ত প্রেমটুকু অকাতরে ছিনিয়ে নিয়েছে। অপ্রেমে থাকতে থাকতে সে যেন দিনকে দিন বুড়িয়ে গেছে, ভাবতে ভুলেই গেছে এককালে সে বেশ ভালো গান গাইত ।তার কন্ঠস্বর ছিল বেশ মিষ্টিমধুর। কিন্তু এখন তার সেই কন্ঠের যা স্বর হয়েছে তা যেমন কর্কশ , মেজাজখানা তেমনি খিটখিটে ।

-বলি, কটা বাজে খেয়াল আছে? গতজন্মে কি কুম্ভকর্নের নাতি ছিলে নাকি? খালি ঘুম আর ঘুম। কাজের মধ্যে দুই, খাই আর শুই।

-আহ, চিৎকার করছ কেন? উঠে তো পড়েছি।

পাশ ফিরে বালিশটাকে কানের ওপর চাপা দিয়ে শু’ল বানীদা।

-অ, তা বুঝব কি করে উঠে পড়েছ! বালিশ আঁকড়ে ভিটকি মেরে এমন পড়ে আছো , দেখে তো বোঝার উপায় নেই ঘুমোচ্ছ না ধ্যান করছ?

-আচ্ছা , আমি কি স্কুলে পড়ি এখনো, একটু ঘুমব তারও উপায় নেই, মা মনসা ধুনোর গন্ধে বাড়ি মাথায় করে তুলছে,- এমন চিল্লাচ্ছো, বাড়িতে কাক চিল বসতেও ভয় পাবে।

বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল বানীদা।

-তা বাজার যেতে হবে তো নাকি। আর দেরি করলে তো বাজারে মাছ পাবে না।– তারপর খালি হাতে ঠং ঠং করতে করতে ফিরে এসে বলবে, ‘কি করব মাছের বাজার উঠে গেছে’।

-উফ, যাচ্ছি বাবা যাচ্ছি। তোমার মাছ আমি এনে দিয়েই যাব, যমরাজ দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকলেও আমার নিস্তার নেই, আগের জন্মে বেড়াল ছিলে নাকি গো?

এই বলে সোজা বাথরুমে ঢুকে গেল বানীদা। কিন্তু আগুনে যেন ঘৃতাহুতি পড়ল…সরমা তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠল,

-কি বললে, আমি বেড়াল, তা তুমি কি? কুয়োর ব্যাং। চিরকাল খালি মুখে মারিতং জগত, ভাবখানা যেন , কি ছিনু কি হনু…দুই মেয়ের বাপ কে বলবে, সারাদিন খালি ঢেয়ে ঢেয়ে বেড়ানো, লোক দেখানো হাসি, … ঘর জ্বালানে , পর ভোলানে লোক , উঁহ, বাপ মা আবার সোহাগ করে নাম রেখেছে বানীব্রত, তাই চিরটাকাল শুধু বানীই দিয়ে যাচ্ছে লোককে, আমার জীবনটা একেবারে তছনছ করে দিল, বদমাইস লোক কোথাকার।

সরমা এইভাবে চেঁচাতে থাকল, আর বানীদা বাথরুম থেকে বেরিয়ে বাজারের ব্যাগ হাতে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল, বড় মেয়ে মুকুট পাশের ঘর থেকে বেড়িয়ে বলল ,

-মা প্লিজ এবার একটু চুপ করো, সব পড়া গুলিয়ে যাচ্ছে।

সরমা হাঁক দিল,

-আরে চা টা তো খেয়ে যাও,

-যা দিলে এতক্ষন , তা আগে হজম করি , তারপর এসে চা খাব।

 

———————————————————-ক্রমশঃ (www.oimookh.com)

 

© Copyright 2016 @indrila, All rights Reserved. Written For: Oimookh