ঠাকুরাসনে লক্ষ্মীর পাঁচালীর নিচে,

নীল খামে রাখা ক-বাবুর চিঠি।

চিঠিটা লিখে শেষবারের মতো

একটা কিং-সাইজ সিগারেট ধরিয়ে

ছাদে উঠেছিলেন ক-বাবু…

ভোরবেলা সূর্য প্রনাম সেরে,

তুলসীমঞ্চে জল দিতে গিয়ে

ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন

পাশেরবাড়ির ‘নিরুর মা’…

চিলেকোঠার ছাদের আলসে থেকে

ওড়নার ফাঁসে ঝুলন্ত ক-বাবুকে দেখে।

 

এরপর গোটা পাড়া এল, সাথে সাথে পুলিশও এল…

উদ্ধার হল ছেলেমেয়েকে লেখা

বিপত্নীক ক-বাবুর শেষ চিঠি,

সুইসাইড নোট…

‘আমি বিশ্বাস করি সততায় যে শান্তি

তা আর কোনও কিছুতেই নেই…

তাই যাবার আগে শেষ সত্যটা জানিয়ে যাই,

তোমাদের অবহেলায় নিজেকে ব্রাত্য ভাবতে ভাবতে

একা হয়ে যাওয়া এই আমি

তোমাদের কাজের মাসি বিন্দুবাসিনীর

নিকষ কালো পেটাই শরীর থেকে চোখ সরাতে সরাতে

নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে

একরাতে তার ইচ্ছের কাছে হেরে গেলাম…

তারপর মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে রেখে এলাম

তাকে তার গ্রামের বাড়ি।

ফিরে এসে অপরাহ্নের আলোয়,

তোমাদের মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হল

তার চোখে চোখ রাখার সাহসটুকুও আর নেই,

নিজেকে মানুষ বলার অধিকার আর বাঁচার ইচ্ছে

দুই-ই আমি চিরকালের মতো হারালাম!!!’

 

গোটা দুনিয়া যখন নষ্টামির হাত ধরে এগিয়ে চলছে

নিজের মত বাঁচতে চেয়ে নতুন কিছুকে জাপটে ধরছে

তখন লক্ষ্মীর পাঁচালীর নিচে রাখা

ক-বাবুর এমন স্বীকারোক্তি…

তাকে কেমন মানুষের খেতাব দেবে???

___________________________________________________________________________

© Copyright 2014 @indrila, All rights Reserved. Written For: Oimookh